পাঁচবিবি উপজেলা সম্পর্কে সারসংক্ষেপ

পাঁচবিবি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত জয়পুরহাট জেলার সর্ব-উত্তরের উপজেলা। জেলা সদর জয়পুরহাট থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই উপজেলাটির পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সংলগ্ন আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। মোট ২৭৮.৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জনপদে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) এর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ২,৩৯,৬১২ জন এবং খানা বা পরিবারের সংখ্যা ৬৬,৬২৮টি। প্রশাসনিকভাবে পাঁচবিবি উপজেলা ১টি 'ক' শ্রেণির পৌরসভা, ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ, ২২২টি মৌজা এবং ২৪৭টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। ঐতিহাসিকভাবে ১৮৬৮ সালের ১৬ মার্চ ছোট যমুনা নদীর ভাঙনে প্রাচীন লালবাজার থানার সদর দপ্তর বর্তমান পাঁচবিবি দরগাহ সংলগ্ন খাসবাগুড়িতে স্থানান্তরিত হয়ে 'পাঁচবিবি থানা' নাম ধারণ করে এবং পরবর্তীতে ১৯৮২ সালের ১৫ ডিসেম্বর এটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় উন্নীত হয়।

উর্বর বরেন্দ্র মাটির প্রাচুর্য, ছোট যমুনা ও তুলশীগঙ্গার নদী অববাহিকা, সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য (পাথরঘাটা), প্রাচীন লকমা রাজবাড়ি এবং সারা দেশে সুপরিচিত 'কচুর লতি' উৎপাদনের জন্য পাঁচবিবি উত্তরবঙ্গের একটি স্বতন্ত্র ও প্রাণবন্ত অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

এক নজরে পাঁচবিবি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS), পাঁচবিবি উপজেলা প্রশাসন এবং জয়পুরহাট জেলা তথ্য বাতায়নের সর্বশেষ অনুমোদিত উপাত্তের ভিত্তিতে এক নজরে পাঁচবিবি উপজেলার মৌলিক পরিসংখ্যান:

পাঁচবিবি উপজেলার মৌলিক পরিসংখ্যান ও তথ্য সারণী
অফিসিয়াল নামপাঁচবিবি উপজেলা (English: Panchbibi Upazila)
জেলা ও বিভাগজয়পুরহাট জেলা, রাজশাহী বিভাগ, বাংলাদেশ
জেলা সদর হতে দূরত্বপ্রায় 11 কিলোমিটার (উত্তর দিকে)
মোট আয়তন278.53 বর্গকিলোমিটার (৬৮,৮৩০ একর)(উপজেলা প্রশাসনের প্রকাশিত বর্তমান তথ্য। কিছু পুরোনো প্রকাশনায় (যেমন বাংলাপিডিয়া/BBS পুরাতন সংস্করণ) আয়তন ৩১১.৭৭ বর্গ কিমি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে; এখানে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক তথ্য অনুসরণ করা হয়েছে।)
ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক২৫°০৮′ থেকে ২৫°১৭′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৫৬′ থেকে ৮৯°১৩′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
মোট জনসংখ্যা২,৩৯,৬১২ জন(BBS জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ জেলা প্রতিবেদন)
লিঙ্গভিত্তিক অনুপাতপুরুষ: ১,১৭,৭৯১ জন (৪৯.১৬%) | নারী: ১,২১,৮২১ জন (৫০.৮৪%)
মোট খানা (পরিবার)৬৬,৬২৮টি পরিবার
সাক্ষরতার হার (৭+ বছর)73.27% (পুরুষ: 76.23%, নারী: 70.39%)
পৌরসভা১টি (পাঁচবিবি পৌরসভা — 'ক' শ্রেণি, ৯টি ওয়ার্ড; প্রতিষ্ঠা: ২৭ আগস্ট ১৯৯৮)
ইউনিয়ন পরিষদ8টি ইউনিয়ন পরিষদ
মৌজা ও গ্রাম222টি মৌজা এবং 247টি গ্রাম (উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের হিসাবে গ্রামের সংখ্যা ২৪৭। উপজেলা প্রশাসনের মৌজা সংখ্যা ২২২টি নিশ্চিত।)
প্রধান নদ-নদীছোট যমুনা নদী, তুলশীগঙ্গা নদী, হারাবতী নদী, শ্রীনদী (মোট ৪টি নদী)
আন্তর্জাতিক সীমান্তভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সংলগ্ন (দৈর্ঘ্য প্রায় 9.5 মাইল)
প্রধান পোস্ট কোড৫৯১০ (Panchbibi)
থানা প্রতিষ্ঠা১৬ মার্চ ১৮৬৮ (ছোট যমুনা ভাঙনে লালবাজার থেকে খাসবাগুড়ি স্থানান্তর)
উপজেলায় রূপান্তর১৫ ডিসেম্বর ১৯৮২
জয়পুরহাট জেলাভুক্তি২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪

অবস্থান ও ভৌগোলিক পরিচিতি

পাঁচবিবি উপজেলা ভৌগোলিকভাবে প্রাচীন বরেন্দ্রভূমির উত্তর-পূর্ব প্রান্তীয় সমতল ও মৃদু ঢেউখেলানো প্লাবনভূমিতে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর গড় উচ্চতা বরেন্দ্র অঞ্চলের স্বভাবসুলভ উচ্চতার অন্তর্ভুক্ত। উপজেলার মাটি প্রধানত প্রাচীন পলিগঠিত দোআঁশ ও এঁটেল ধরনের, যা ধান, আলু, আখ ও সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উর্বর। উপজেলার মধ্যভাগ দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে ছোট যমুনা নদী প্রবাহিত হয়েছে, যা এলাকাটিকে দুটি ভূপ্রাকৃতিক অংশে বিভক্ত করেছে।

পাঁচবিবি উপজেলার আন্তর্জাতিক গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; উপজেলার সমগ্র পশ্চিম সীমান্তজুড়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সীমান্ত বিস্তৃত। এই আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ৯.৫০ মাইল। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হিলির নিকটবর্তী হওয়ায় পাঁচবিবি ব্যবসা ও বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট।

চতুর্দিকের প্রশাসনিক সীমানা

উত্তর সীমানা

দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলা

দক্ষিণ সীমানা

জয়পুরহাট সদর ও কালাই উপজেলা

পূর্ব সীমানা

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা

পশ্চিম সীমানা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য (দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সংলগ্ন আন্তর্জাতিক সীমান্ত)

ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক অনুযায়ী উপজেলাটি ২৫°০৮′ থেকে ২৫°১৭′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৫৬′ থেকে ৮৯°১৩′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এর মধ্যে অবস্থিত। জেলা সদর জয়পুরহাট থেকে পাকা সড়ক ও ব্রডগেজ রেলপথে পাঁচবিবির দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার।

পাঁচবিবি নামকরণের ইতিহাস ও ঐতিহ্য

পাঁচবিবি নামের উৎপত্তি নিয়ে ঐতিহাসিক তথ্য ও স্থানীয় লোকশ্রুতির মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট। গবেষণার স্বার্থে এ দুটি দিক আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি:

১. প্রশাসনিকভাবে নথিভুক্ত ঐতিহাসিক ভিত্তি

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ১৭৯৩ সালে এই অঞ্চলে পুলিশি ও রাজস্ব প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে লালবাজার থানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। থানা সদরটি বর্তমান পাঁচবিবি শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ছোট যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত ছিল। ১৮৬৮ সালের বসন্তে ছোট যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে লালবাজারের থানা ভবন ও প্রশাসনিক দফতর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় তৎকালীন ব্রিটিশ প্রশাসন ১৮৬৮ সালের ১৬ মার্চ এক সরকারি আদেশের মাধ্যমে লালবাজার থানার কার্যালয় ছোট যমুনার পূর্ব তীরের খাসবাগুড়ি মৌজায় (বর্তমান পাঁচবিবি দরগাহ ও সদর এলাকা) স্থানান্তর করে। স্থানান্তরের পর থেকে নতুন কেন্দ্রের ভৌগোলিক পরিচয়ে থানাটির নাম সরকারিভাবে পাঁচবিবি থানা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এটিই পাঁচবিবি নামের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ও সরকারিভাবে সংরক্ষিত দালিলিক ইতিহাস।

২. জনশ্রুতি ও লোক-ঐতিহ্যের বিবরণ

স্থানীয় মৌখিক সংস্কৃতি ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বর্ণনা অনুসারে, বহু শতাব্দী পূর্বে এই এলাকায় ইসলাম প্রচার ও ধর্মীয় সাধনার উদ্দেশ্যে আগমন করেছিলেন বিশিষ্ট পঞ্চ পীর বা পাঁচজন আউলিয়া। তাঁদের সাথে সংশ্লিষ্ট পাঁচজন মহীয়সী নারী বা সাধ্বী বিবি (পীর-পত্নী অথবা নারী বুজুর্গ)-এর পবিত্র স্মৃতি ও মাজারকে কেন্দ্র করে এলাকাটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে 'পাঁচবিবির আস্তানা' এবং কালক্রমে সংক্ষেপে 'পাঁচবিবি' নামে রূপান্তরিত হয়।

৩. বিকল্প ঐতিহাসিক অনুমান (পঞ্চনগরী তত্ত্ব)

কোনো কোনো আঞ্চলিক ইতিহাসবিদ ধারণা করেন, প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বরেন্দ্র অঞ্চলে পাথরঘাটা প্রত্নস্থলের মতো প্রাচীন জনপদের আশেপাশে পাঁচটি সমৃদ্ধ উপনগরী বা বাণিজ্যপল্লী ছিল, যা প্রাচীন সংস্কৃত বা প্রাকৃত ভাষায় 'পঞ্চনগরী' বা 'পঞ্চপল্লী' নামে পরিচিত ছিল। লোকমুখের উচ্চারণের রূপান্তরে এটিই পরবর্তীতে পাঁচবিবি রূপ পরিগ্রহ করতে পারে। তবে এই মতটির পক্ষে কোনো সরাসরি শিলালিপি বা রাজকীয় তাম্রশাসনের প্রমাণ অদ্যাবধি মেলেনি।

ঐতিহাসিক প্রামাণিকতার পর্যালোচনা: ১৮৬৮ সালের ১৬ মার্চ নদীভাঙনের কারণে লালবাজার থানা খাসবাগুড়িতে স্থানান্তরের ঘটনাটি সরকারি নথিপত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। পাঁচজন বিবির স্মৃতি কিংবা পঞ্চনগরীর ধারণা লোক-ইতিহাস ও আঞ্চলিক স্মৃতিচারণের অংশ হিসেবে মূল্যায়িত হয়।

পাঁচবিবির ইতিহাস ও ঐতিহাসিক সময়রেখা

প্রাচীন বরেন্দ্র জনপদের অংশ হিসেবে পাঁচবিবির ইতিহাস বহু শতাব্দী প্রাচীন। পাল ও সেন আমলে তুলশীগঙ্গার তীরে গড়ে উঠেছিল সমৃদ্ধ পাথরঘাটা প্রত্নতাত্ত্বিক কেন্দ্র। মধ্যযুগে সুলতানি ও মোঘল শাসনামলে এটি বরেন্দ্রর প্রধান কৃষি ও বাণিজ্য পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ব্রিটিশ আমলে এটি বগুড়া জেলার লালবাজার থানার অধীনে ছিল। ১৯৩০-এর দশকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ১৯৩৪ সালের হিলির ঐতিহাসিক রেলওয়ে ডাকব্যাগ লুণ্ঠন ঘটনা, ১৯৪৬ সালের তেভাগা আন্দোলন এবং ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনে পাঁচবিবির জনগণ বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে।

  1. প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে লালবাজার থানার এলাকা বগুড়া জেলার অংশ হয়।

    উৎস: Banglapedia
  2. ছোট যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে বিপন্ন লালবাজার থানার সদর দপ্তর পাঁচবিবি দরগাহ সংলগ্ন খাসবাগুড়ি এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। এরপর থেকে থানাটি পাঁচবিবি থানা নামে পরিচিতি লাভ করে।

    উৎস: পাঁচবিবি উপজেলা প্রশাসন / জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন
  3. ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের আন্দোলনে পাঁচবিবি অঞ্চলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

    উৎস: Banglapedia (পাঁচবিবি উপজেলা)
  4. স্থানীয় বিপ্লবী কর্মীদের সাথে সম্পর্কিত হিলিতে ডাকব্যাগ ঘটনা।

    উৎস: Banglapedia
  5. ভারত ছাড়ো আন্দোলনে পাঁচবিবি অঞ্চলের স্থানীয় অংশগ্রহণ।

    উৎস: Banglapedia
  6. তেভাগা আন্দোলনে পাঁচবিবি অঞ্চলের কৃষক কর্মকাণ্ড।

    উৎস: Banglapedia
  7. ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে পাঁচবিবিতে হরতাল পালিত হয়।

    উৎস: Banglapedia
  8. মহীপুরে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আয়োজিত শিক্ষা সম্মেলন।

    উৎস: Banglapedia
  9. জয়পুরহাট মহকুমা গঠিত হয়; পাঁচবিবি নতুন মহকুমার অংশ হয়।

    উৎস: পাঁচবিবি উপজেলা প্রশাসন
  10. মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাঁচবিবি ৭ নং সেক্টরের অধীনে ছিল। লাল বিহারী পাইলট হাই স্কুলে প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপিত হয়। এপ্রিলে পাক-সেনাবাহিনী পাঁচবিবি বাজারে আক্রমণ করে এবং লাল বিহারী স্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্থানে আগুন দেয়।

    উৎস: স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস / Banglapedia
  11. পাঁচবিবি থানাকে মানউন্নীত করে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় ঘোষণা করা হয়।

    উৎস: পাঁচবিবি উপজেলা প্রশাসন
  12. নবগঠিত জয়পুরহাট জেলার অন্তর্ভুক্ত হয় পাঁচবিবি উপজেলা।

    উৎস: পাঁচবিবি উপজেলা প্রশাসন / জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন

মুক্তিযুদ্ধে পাঁচবিবি (১৯৭১)

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাঁচবিবি উপজেলা ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত ছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাঁচবিবি ৭ নম্বর সেক্টরের অধীনে পরিচালিত হয়, যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরবর্তীতে সুবেদার মেজর (পরবর্তীতে ক্যাপ্টেন) খোদাদাদ খাঁ ও উইং কমান্ডার খাদেমুল বাশার।

যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে ঐতিহাসিক পাঁচবিবি লাল বিহারী পাইলট হাই স্কুলে স্থানীয় ছাত্র-যুবক ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপন করা হয়। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পাঁচবিবি বাজারে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা বাজার এলাকা, লাল বিহারী স্কুল এবং আশেপাশের বহু বাড়িঘরে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়।

সীমান্তবর্তী আয়মারসুলপুর, কড়িয়া ও বাগজানা অঞ্চলে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র গেরিলা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা বালীঘাটা, দমদমা এবং হাজীপুর এলাকায় অসংখ্য নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে গণকবর দেয়।

প্রধান বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্মারক:

  • দমদমা রেলওয়ে ব্রিজ বধ্যভূমি: রেললাইনের নিকটবর্তী এই স্থানে বহু দেশপ্রেমিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।
  • বকুলতলা বধ্যভূমি: পাঁচবিবির কেন্দ্রস্থলে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঐতিহাসিক সাক্ষ্য।
  • বালীঘাটা বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ: শহীদ বীর সন্তানদের স্মরণে বালীঘাটা এলাকায় নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ।
  • উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার: পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত মূল স্মৃতিসৌধ।
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া (পাঁচবিবি উপজেলা ভুক্তি), জেলা প্রশাসনের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংকলন ও স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রামাণ্য বিবরণ।

জনসংখ্যা, সাক্ষরতা ও সামাজিক বিন্যাস

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর প্রকাশিত জয়পুরহাট জেলা চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পাঁচবিবি উপজেলার সর্বমোট জনসংখ্যা ২,৩৯,৬১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,১৭,৭৯১ জন এবং নারী ১,২১,৮২১ জন। লিঙ্গভিত্তিক অনুপাত প্রতি ১০০ জন নারীতে প্রায় ৯৬.৬৯ জন পুরুষ। উপজেলায় মোট খানা বা পরিবারের সংখ্যা ৬৬,৬২৮টি।

বিষয় / নির্দেশকউপাত্ত ও পরিসংখ্যান (BBS ২০২২)
মোট জনসংখ্যা২,৩৯,৬১২ জন
পুরুষ জনসংখ্যা১,১৭,৭৯১ জন (৪৯.১৬%)
নারী জনসংখ্যা১,২১,৮২১ জন (৫০.৮৪%)
মোট খানা বা পরিবার সংখ্যা৬৬,৬২৮টি
গড় খানার আকার (সদস্য/পরিবার)প্রায় ৩.৬০ জন
সার্বিক সাক্ষরতার হার (৭ বছর ও তদূর্ধ্ব)73.27%
পুরুষ সাক্ষরতার হার76.23%
নারী সাক্ষরতার হার70.39%

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২, জয়পুরহাট জেলা প্রতিবেদন। জাতীয় প্রাথমিক প্রতিবেদনে সামান্য ভিন্ন সংখ্যা (২,৩৯,৫৯১) দেখা যায়; জেলাভিত্তিক চূড়ান্ত প্রকাশনার তথ্য অনুসরণ করা হয়েছে।

জনসংখ্যার ঐতিহাসিক পরিবর্তন ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য

২০১১ সালের পূর্ববর্তী আদমশুমারিতে পাঁচবিবি উপজেলার জনসংখ্যা ছিল ২,৪০,৭৯৭ জন এবং সাক্ষরতার হার ছিল ৫৮.৯%। বিগত এক দশকে পরিবার পরিকল্পনা, শিক্ষার বিস্তার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে জন্মহার পরিমিত হয়েছে এবং সাক্ষরতার হার ৫৮.৯% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩.২৭% এ উন্নীত হয়েছে—যা শিক্ষার ক্ষেত্রে ১৪.৩৭% লক্ষণীয় ইতিবাচক অগ্রগতি।

জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মুসলিম ধর্মাবলম্বী। এছাড়া সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী এবং সীমান্তবর্তী বাগজানা ও আটাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সাঁওতাল, ওরাওঁ ও মাহালী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী উপস্থিতি রয়েছে, যারা স্থানীয় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

প্রশাসনিক কাঠামো ও স্থানীয় সরকার

পাঁচবিবি উপজেলার স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনিক কাঠামো ১টি প্রথম শ্রেণির ('ক' শ্রেণি) পৌরসভা এবং ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়ে বিন্যস্ত। উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদ। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশি ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছে পাঁচবিবি থানা।

১টিপৌরসভা ('ক' শ্রেণি)
৮টিইউনিয়ন পরিষদ
২২২টিমৌজা
২৪৭টিগ্রাম

উপজেলার সার্বিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নাগরিক সেবার বিস্তারিত কাঠামোর জন্য দেখুন আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ নির্দেশিকা এবং পাঁচবিবি পৌরসভা সহায়িকা।

পাঁচবিবির ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ

পাঁচবিবি উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন গ্রামীণ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান, সদস্য এবং সচিবের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ভিজিএফ ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়:

নংইউনিয়নের নাম (বাংলা)Union Name (English)ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য
১১নং আটাপুর ইউনিয়নAatapur Unionতুলশীগঙ্গা তীরবর্তী ও পাথরঘাটা প্রত্নস্থল সংলগ্ন
২২নং আয়মারসুলপুর ইউনিয়নAymarasulpur Unionলকমা জমিদার বাড়ি ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা
৩৩নং বাগজানা ইউনিয়নBagjana Unionবাগজানা রেলওয়ে স্টেশন ও বৃহৎ কৃষি হাট
৪৪নং বালীঘাটা ইউনিয়নBalighata Unionউপজেলা সদর সংলগ্ন ও বালীঘাটা বাণিজ্যিক হাট
৫৫নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নMohammadpur Unionবিস্তৃত কৃষি সমভূমি ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ পল্লী
৬৬নং ধরঞ্জী ইউনিয়নDharanji Unionপশ্চিম সীমান্ত ও কলা-সবজি বাণিজ্যের কেন্দ্র
৭৭নং কুসুম্বা ইউনিয়নKusumba Unionকুসুম্বা বিল ও উর্বর বোরো শস্যভাণ্ডার
৮৮নং আওলাই ইউনিয়নAolai Unionপূর্বাঞ্চলীয় কৃষি জনপদ ও গোবিন্দগঞ্জ সংযোগ

পাঁচবিবি পৌরসভা

পাঁচবিবি পৌরসভা স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন অনুযায়ী ২৭ আগস্ট ১৯৯৮ তারিখে (২৯শে ভাদ্র ১৪০৫ বঙ্গাব্দ) প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি 'গ' শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে নাগরিক সেবার মান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও রাজস্ব আদায়ের ভিত্তিতে এটি প্রথম শ্রেণি বা 'ক' শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়েছে।

পৌরসভা এলাকাটি মোট 9টি প্রশাসনিক ওয়ার্ডে বিভক্ত। পাঁচবিবি রেলগেট, বাজার এলাকা, হাসপাতাল রোড, দমদমা এবং স্টেশন সংলগ্ন অঞ্চল নিয়ে পৌর সদর গঠিত। পৌরসভার মূল নাগরিক সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে অনলাইন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, সড়ক বাতি রক্ষণাবেক্ষণ, পয়ঃনিষ্কাশন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ।

নদ-নদী ও প্রাকৃতিক জলাশয়

পাঁচবিবি উপজেলার ভূপ্রকৃতি ও কৃষি মূলত নদী অববাহিকার পলিমাটি দ্বারা সমৃদ্ধ। উপজেলা প্রশাসনের দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী পাঁচবিবির ওপর দিয়ে প্রবাহিত প্রধান নদী চারটি:

১. ছোট যমুনা নদী

পাঁচবিবির প্রধানতম ও ঐতিহাসিক নদী। ভারতের দিনাজপুর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে পাঁচবিবির পশ্চিম-মধ্যাঞ্চল দিয়ে জয়পুরহাট সদরের দিকে প্রবাহিত হয়েছে। এই নদীর তীরেই প্রাচীন লালবাজার গড়ে উঠেছিল এবং ১৮৬৮ সালের নদীভাঙনেই আধুনিক পাঁচবিবির প্রশাসনিক ভিত্তি স্থাপিত হয়।

২. তুলশীগঙ্গা নদী

উপজেলার পূর্ব প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী নদী। এই নদীর অববাহিকায় প্রাচীন বরেন্দ্র সভ্যতার প্রত্নস্থল পাথরঘাটা অবস্থিত। প্রাচীনকালে এটি প্রধান জলবাণিজ্য পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

৩. হারাবতী নদী

পশ্চিম সীমান্তে প্রবাহিত একটি নদী, যা বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সীমান্তবর্তী কৃষিজমিতে সেচ প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪. শ্রীনদী

উপজেলা তথ্য বাতায়নে নথিভুক্ত বরেন্দ্রভূমির একটি ঐতিহ্যবাহী নদী প্রবাহ, যা স্থানীয় প্রাকৃতিক জলাশয় ও কৃষি ব্যবস্থার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।

উপজেলা প্রশাসনের এক নজরে তথ্যে চারটি নদীর উল্লেখ পাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে ছোট যমুনা প্রধানতম নদী।

কৃষি, বিখ্যাত কচুর লতি ও অর্থনীতি

পাঁচবিবি উপজেলার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। বরেন্দ্রভূমির উর্বর এঁটেল-দোআঁশ মাটি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এখানে সারা বছরই প্রচুর ফসল উৎপাদিত হয়। জয়পুরহাট জেলার খাদ্যশস্যের অন্যতম বড় যোগানদাতা এই পাঁচবিবি।

প্রধান প্রধান কৃষিপণ্য

🌱 ধান🌱 ইক্ষু (আখ)🌱 পাট🌱 গম🌱 আলু🌱 কচু ও কচুর লতি🌱 পটল🌱 সবুজ শাকসবজি

পাঁচবিবির ব্র্যান্ড: 'কচুর লতি'

পাঁচবিবি উপজেলা সারা বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে কচুর লতি উৎপাদনের জন্য এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, বিশেষ করে আয়মারসুলপুর, বালীঘাটা, ধরঞ্জী ও কুসুম্বা এলাকায় শত শত একর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উন্নত জাতের কচুর লতি চাষ করা হয়। মৌসুমে প্রতিদিন পাঁচবিবি ও বালীঘাটা বাজার থেকে ট্রাকে ট্রাকে তাজা কচুর লতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে সরবরাহ করা হয় এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।

আলু চাষেও পাঁচবিবি উত্তরবঙ্গের অন্যতম শীর্ষ এলাকা। এছাড়া আখ চাষের ক্ষেত্রে উপজেলাটি জয়পুরহাট চিনিকলের (Joypurhat Sugar Mills) প্রধান কাঁচামাল যোগানদাতা। উপজেলায় মোট 21টি সরকারি নথিভুক্ত হাট-বাজার রয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিপণ্য বেচাকেনার কেন্দ্রবিন্দু। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন আমাদের পাঁচবিবির হাট-বাজার সহায়িকা।

শিক্ষা ব্যবস্থা ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান

পাঁচবিবি উপজেলায় একটি সমৃদ্ধ শিক্ষাগত ঐতিহ্য রয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা অবদান রেখেছেন। প্রাথমিক থেকে শুরু করে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সমমানের ডিগ্রি কলেজ এবং আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসার একটি সুসংহত নেটওয়ার্ক এখানে গড়ে উঠেছে।

শতবর্ষী বিদ্যালয়

পাঁচবিবি লাল বিহারী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

প্রতিষ্ঠা: ১৯০৪ সাল (EIIN: 121983)। পাঁচবিবির প্রাচীনতম ও শীর্ষস্থানীয় মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শিবির ছিল।

সরকারি কলেজ

মহীপুর হাজী মুহসীন সরকারি কলেজ

প্রতিষ্ঠা: ১৯৬৯ সাল (EIIN: 122068)। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত উপজেলার শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

নারী শিক্ষা

পাঁচবিবি বালিকা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

উপজেলার নারী শিক্ষার প্রসারে নিবেদিত শীর্ষ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়।

ডিগ্রি কলেজ

পাঁচবিবি ডিগ্রি কলেজ

প্রতিষ্ঠা: ১৯৭২ সাল (EIIN: 122070)। পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের অন্যতম বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে বাঁশখুর ফাজিল মাদ্রাসা, উচাই আলিম মাদ্রাসা এবং বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী কওমি মাদ্রাসা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিস্তার ঘটাচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল পরিকাঠামো

পাঁচবিবি উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু হলো ৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (DGHS Facility ID: 10001305)। হাসপাতালটি পাঁচবিবি পৌর শহরের হাসপাতাল রোডে অবস্থিত। এখানে সার্বক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ, সাধারণ ও প্রসূতি ওয়ার্ড, জরুরি প্রসূতি সেবা (EOC), ডিজিটাল এক্স-রে, ল্যাবরেটরি প্যাথলজি পরীক্ষা ও সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু রয়েছে।

তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র/উপকেন্দ্র এবং গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিবন্ধিত কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যকর রয়েছে, যা বিনামূল্যে প্রাথমিক ওষুধ ও টিকাদান সেবা প্রদান করে। এছাড়া পৌর শহরে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিয়মিত রোগী দেখেন।

দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থানসমূহ

প্রাচীন বরেন্দ্র জনপদের অংশ হিসেবে পাঁচবিবিতে বেশ কয়েকটি জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থাপত্য নিদর্শন রয়েছে, যা পর্যটক ও গবেষকদের আকর্ষণ করে:

পাথরঘাটা প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চল

তুলশীগঙ্গা নদীর তীরে প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত বহু প্রাচীন ঢিবির সমন্বিত প্রত্নস্থল (উচাই ঢিবি, নিমাই শাহের মাজার, কাশিয়া বাড়ি ঢিবি)। এখানে প্রাচীন পোড়ামাটির ফলক, গ্রানাইট পাথরের সুদৃশ্য স্তম্ভ ও ভাস্কর্য আবিষ্কৃত হয়েছে।

লকমা জমিদার বাড়ি (লকমা রাজবাড়ি)

২নং আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কড়িয়া গ্রামে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত প্রায় ২০০–৩০০ বছরের প্রাচীন রাজপ্রাসাদ। ইংরেজি ‘U’ আকৃতির দ্বিতল মূল ভবন, হাতিশাল, ঘোড়াশাল ও কাচারি ঘরের ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান।

পাঁচবিবি দরগাহ / মাজার শরীফ

ঐতিহাসিক খাসবাগুড়ি দরগাহ, যার স্মৃতি ও অবস্থানের নামানুসারে ১৮৬৮ সালে লালবাজার থানা স্থানান্তরিত হয়েছিল। এটি স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মূল স্মারক।

আটাপুর ঐতিহাসিক দীঘি ও প্রাচীন মসজিদ

১নং আটাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত সুলতানি ও মোঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী বিশাল দীঘি ও প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ, যা বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাচীন পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার স্মারক।

হাট-বাজার ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) ও উপজেলা প্রশাসনের সরকারি তালিকা অনুসারে পাঁচবিবি উপজেলায় মোট ২১টি নিবন্ধিত হাট-বাজার রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হলো পাঁচবিবি পৌর বাজার ও বালীঘাটা হাট (হাটের বার: রবিবার ও বৃহস্পতিবার)। এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান শস্য, আলু ও গবাদিপশুর হাট হিসেবে খ্যাত।

এছাড়া ৩নং বাগজানা ইউনিয়নে অবস্থিত বাগজানা হাট (শনিবার ও মঙ্গলবার) শাকসবজি ও গ্রামীণ কৃষিপণ্যের বড় বাজার হিসেবে পরিচিত। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হাটের মধ্যে রয়েছে ধরঞ্জী হাট, আটাপুর হাট, কুসুম্বা হাট ও মোহাম্মদপুর হাট।

যাতায়াত ব্যবস্থা ও রেল যোগাযোগ

পাঁচবিবি উপজেলা সড়ক ও রেল উভয় যোগাযোগ মাধ্যমেই অত্যন্ত সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থানে অবস্থিত:

  • সড়ক যোগাযোগ: জয়পুরহাট-হিলি আঞ্চলিক মহাসড়ক পাঁচবিবি পৌর শহরের ওপর দিয়ে চলে গেছে। ঢাকা (গাবতলী, মহাখালী) থেকে সরাসরি দিবা ও নৈশকোচ বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। এছাড়া বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর, জয়পুরহাট জেলা সদর ও হিলি স্থলবন্দরে নিয়মিত বাস ও সিএনজি চলাচল করে।
  • রেল যোগাযোগ: বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান ব্রডগেজ লাইনে অবস্থিত পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশন (স্টেশন কোড: PCBI)। আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস (৭০৫/৭০৬), দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৭/৭৫৮), বরেন্দ্র এক্সপ্রেস (৭৩১/৭৩২), তিতুমীর এক্সপ্রেস (৭৩৩/৭৩৪) ও বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস (৮০৩/৮০৪) সহ নিয়মিত মেইল ও কমিউটার ট্রেন এখানে নিয়মিত যাত্রাবিরতি করে।

ডাক যোগাযোগ ও পোস্ট কোড (৫৯১০)

বাংলাদেশ ডাক অধিদপ্তরের অনুমোদিত গেজেট অনুযায়ী পাঁচবিবি উপজেলার প্রধান ডাকঘরের (Panchbibi Head Post Office) পোস্ট কোড হলো ৫৯১০।

পোস্ট কোড সংক্রান্ত সতর্কতা: কিছু তৃতীয় পক্ষের অনলাইন সাইটে বাগজানার পোস্ট কোড হিসেবে ভুলবশত ৫২৭০ উল্লেখ দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে ৫২৭০ হলো দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর (বাংলাহিলি) উপজেলার কোড। পাঁচবিবি উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও শাখা ডাকঘর (বীরনগর, আটাপুর, দিবাকরপুর, নিকরদীঘি) ৫৯১০ কোডের অধীন কার্যকর রয়েছে।

সরকারি সেবা ও দপ্তরসমূহ

পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাঠ পর্যায়ের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর অবস্থিত। এর মধ্যে রয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় (ইউএনও অফিস), সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডের কার্যালয় (ই-নামজারি, জমি খারিজ ও খাজনা সেবা), পাঁচবিবি থানা পুলিশ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, সমবায় কার্যালয় এবং উপজেলা শিক্ষা অফিস।

জরুরি যোগাযোগ ও নাগরিক হটলাইন

যেকোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, নিরাপত্তা সংকট বা স্বাস্থ্যগত জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হটলাইনসমূহ:

জাতীয় হেল্পলাইন৯৯৯ — পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স (টোল-ফ্রি)
তথ্য সেবা৩৩৩ — সরকারি সেবা ও অভিযোগ হটলাইন
স্বাস্থ্য বাতায়ন১৬২৬৩ — ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকের পরামর্শ
পাঁচবিবি থানা০১৩২০-১২৭৫৯৫ (ওসি) / ০১৩২০-১২৭৬০০ (ডিউটি অফিসার)
ফায়ার সার্ভিস০১৯০১-০২২৩০৫ (পাঁচবিবি ফায়ার স্টেশন)
পল্লী বিদ্যুৎ০১৭৬৯-৪০০১৬০ (পাঁচবিবি জোনাল অফিস)

রক্তদাতা সহায়িকা প্ল্যাটফর্ম

জরুরি অস্ত্রোপচার, সড়ক দুর্ঘটনা বা থ্যালাসেমিয়া রোগীর রক্তের প্রয়োজনে পাঁচবিবি উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের নিয়ে একটি উন্মুক্ত নাগরিক তালিকা পরিচালিত হয়। রক্তের গ্রুপ (A+, A-, B+, B-, O+, O-, AB+, AB-) এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন অনুযায়ী রক্তদাতাদের সাথে রোগীর স্বজনরা সরাসরি যোগাযোগ করে রক্ত সংগ্রহ করতে পারেন।

(ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই মূল সহায়িকা পাতায় রক্তদাতাদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর প্রকাশ করা হয় না; রক্তের প্রয়োজনে নিবেদিত রক্তদাতা পাতাটি ব্যবহার করুন)।

পাঁচবিবি সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

পাঁচবিবি উপজেলা সম্পর্কিত সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ ও তথ্যভিত্তিক সরাসরি উত্তর:

পাঁচবিবি কোন জেলায় এবং কোন বিভাগে অবস্থিত?
পাঁচবিবি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত জয়পুরহাট জেলার সর্ব-উত্তরের উপজেলা।
পাঁচবিবি উপজেলা সদর জেলা শহর থেকে কত দূরে?
পাঁচবিবি উপজেলা সদর জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে উত্তর দিকে পাকা সড়ক ও ব্রডগেজ রেলপথে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
পাঁচবিবি নামটি কীভাবে এসেছে?
১৮৬৮ সালের ১৬ মার্চ ছোট যমুনা নদীর ভাঙনে প্রাচীন লালবাজার থানার সদর দপ্তর বর্তমান পাঁচবিবি দরগাহ সংলগ্ন খাসবাগুড়ি মৌজায় স্থানান্তরিত হয় এবং স্থানটির নামানুসারে থানাটি 'পাঁচবিবি' পরিচিতি লাভ করে। লোকশ্রুতিতে পাঁচজন পুণ্যবতী বিবি বা পীর-পত্নীর স্মৃতি থেকেও নামটি প্রচলিত বলে বিশ্বাস করা হয়।
পাঁচবিবি উপজেলার আয়তন কত?
পাঁচবিবি উপজেলা প্রশাসনের বর্তমান অনুমোদিত তথ্য অনুযায়ী উপজেলার মোট আয়তন ২৭৮.৫৩ বর্গকিলোমিটার (৬৮,৮৩০ একর)।
পাঁচবিবি উপজেলার জনসংখ্যা কত?
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) এর জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী পাঁচবিবি উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২,৩৯,৬১২ জন (পুরুষ ১,১৭,৭৯১ জন এবং নারী ১,২১,৮২১ জন)।
পাঁচবিবিতে কয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা রয়েছে?
পাঁচবিবি উপজেলায় ১টি পৌরসভা (পাঁচবিবি পৌরসভা — 'ক' শ্রেণি) এবং ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।
পাঁচবিবি উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের নাম কী কী?
পাঁচবিবির ৮টি ইউনিয়ন হলো: ১নং আটাপুর, ২নং আয়মারসুলপুর, ৩নং বাগজানা, ৪নং বালীঘাটা, ৫নং মোহাম্মদপুর, ৬নং ধরঞ্জী, ৭নং কুসুম্বা এবং ৮নং আওলাই ইউনিয়ন।
পাঁচবিবি থানা কবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কবে উপজেলায় উন্নীত হয়?
১৮৬৮ সালের ১৬ মার্চ লালবাজার থেকে স্থানান্তরের মাধ্যমে পাঁচবিবি থানা গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৫ ডিসেম্বর ১৯৮২ তারিখে এটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় রূপান্তরিত হয় এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ তারিখে নবগঠিত জয়পুরহাট জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়।
পাঁচবিবির প্রধান পোস্ট কোড কত?
পাঁচবিবি উপজেলার প্রধান ডাকঘরের পোস্ট কোড হলো ৫৯১০ (Panchbibi — 5910)।
পাঁচবিবির ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর নাম কী?
পাঁচবিবি উপজেলার প্রধান ৪টি নদী হলো: ছোট যমুনা নদী, তুলশীগঙ্গা নদী, হারাবতী নদী এবং শ্রীনদী।
পাঁচবিবির প্রধান দর্শনীয় স্থান কী কী?
প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহের মধ্যে রয়েছে পাথরঘাটা প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চল, লকমা জমিদার বাড়ি (লকমা রাজবাড়ি), পাঁচবিবি দরগাহ শরীফ, আটাপুর ঐতিহাসিক দীঘি ও দমদমা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ।
পাঁচবিবিতে কীভাবে যাওয়া যায়?
ঢাকা থেকে সান্তাহার-পার্বতীপুর রুটের আন্তঃনগর ট্রেনে (একতা, দ্রুতযান, বাংলাবান্ধা, বরেন্দ্র, তিতুমীর এক্সপ্রেস) সরাসরি পাঁচবিবি স্টেশনে নামা যায়। এছাড়া ঢাকা গাবতলী ও মহাখালী থেকে জয়পুরহাট-হিলি রুটের নৈশকোচ ও দিবা বাসে সরাসরি পাঁচবিবি পৌঁছানো যায়।
পাঁচবিবির সবচেয়ে বিখ্যাত কৃষিপণ্য কোনটি?
পাঁচবিবি সারা বাংলাদেশে কচুর লতি উৎপাদনের জন্য সুখ্যাত। এখানকার উৎপাদিত তাজা কচুর লতি সারা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়। এছাড়া আলু, ধান ও আখের ফলনেও উপজেলাটি অগ্রগণ্য।

তথ্যের নির্ভরযোগ্য উৎস

  • উপজেলা প্রশাসন, পাঁচবিবি (বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন)•সরকারি নথি/পোর্টাল•সংগৃহীত: 2026-10-11

    আয়তন (২৭৮.৫৩ বর্গ কিমি), মৌজা (২২২টি), ইউনিয়ন (৮টি), সীমানা, নদী ও পোস্ট কোড।

  • পাঁচবিবি উপজেলা প্রশাসন•সরকারি নথি/পোর্টাল•সংগৃহীত: 2026-10-11

    লালবাজার থেকে ১৮৬৮ সালের ১৬ মার্চ পাঁচবিবিতে থানা স্থানান্তর এবং নামকরণের ঐতিহাসিক তথ্য।

  • বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)•সরকারি নথি/পোর্টাল•প্রকাশকাল: 2023-01-01•সংগৃহীত: 2026-10-11

    জনসংখ্যা (২,৩৯,৬১২), খানা (৬৬,৬২৮), সাক্ষরতার হার (৭৩.২৭%), পুরুষ ও নারী সাক্ষরতা।

  • বাংলাপিডিয়া — এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ•রেফারেন্স গ্রন্থ/গেজেট•সংগৃহীত: 2026-10-11

    ঐতিহাসিক পটভূমি, রাজনৈতিক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ।

  • 5.ট্যুরিস্ট পুলিশ, রাজশাহী বিভাগ — জয়পুরহাটের দর্শনীয় স্থান
    ট্যুরিস্ট পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ•সরকারি নথি/পোর্টাল•সংগৃহীত: 2026-10-11

    লকমা জমিদার বাড়ি ও পাথরঘাটা প্রত্নস্থলের সরকারি স্বীকৃতি।

  • বাংলাদেশ ডাক বিভাগ (Panchbibi.com-এ সংকলিত)•সরকারি নথি/পোর্টাল•সংগৃহীত: 2026-10-11

    পোস্ট কোড ৫৯১০ (পাঁচবিবি প্রধান ডাকঘর)।

তথ্যটি ভুল বা পুরোনো?

ভুল বা পুরোনো তথ্য জানালে আমরা প্রকাশিত সূত্র যাচাই করে প্রয়োজন হলে সংশোধন করব।

নাম ও যোগাযোগের তথ্য ঐচ্ছিক। প্রয়োজন হলে তথ্য যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে।